eSIM কী এবং বিদেশ ভ্রমণে কীভাবে ব্যবহার করবেন?
eSIM হলো ফোনের ভেতরে থাকা সিম। জানুন এটি কীভাবে কাজ করে, আপনার ফোন এটি সাপোর্ট করে কি না, আর কীভাবে এটি রোমিংয়ের খরচ বাঁচায়।
বিদেশ থেকে ফিরে কখনো কি রোমিংয়ের বিল দেখে চমকে গেছেন? তাহলে এই গাইড আপনার জন্য। eSIM হলো বিদেশে ইন্টারনেট পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায়, এতে আপনার অপারেটরের রোমিং রেট দিতে হয় না। গত কয়েক বছরে বিক্রি হওয়া বেশিরভাগ ফোনেই এটি আগে থেকেই আছে।
eSIM কী?
সিম কার্ড আপনার ফোনকে মোবাইল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করে। বহু বছর ধরে এটি ছিল প্লাস্টিকের একটি ছোট চিপ, যা ফোনের পাশে ঢোকাতে হতো।
eSIM একই কাজ করে, কিন্তু এটি ফোনের ভেতরেই তৈরি থাকে। কিছু ঢোকাতে হয় না: চিপের বদলে আপনি একটি প্রোফাইল ডাউনলোড করেন, সাধারণত একটি QR কোড স্ক্যান করে বা কোনো অ্যাপে একটি বাটন চেপে। ফোন এটিকে দ্বিতীয় সিমের মতো ব্যবহার করে।
ভ্রমণে এটি কেন কাজে লাগে?
বিদেশে আপনার সাধারণ সিম দিয়ে ফোন চালালে আপনি রোমিংয়ে থাকেন: বাংলাদেশে আপনার অপারেটর আপনাকে সংযুক্ত রাখতে বিদেশি নেটওয়ার্ককে টাকা দেয়, আর সেই খরচ আপনার কাছ থেকে নেয়। অপারেটর আর দেশভেদে এটি বেশ ব্যয়বহুল হতে পারে।
ট্রাভেল eSIM দিয়ে আপনি সরাসরি সেই দেশের ইন্টারনেট কেনেন, যেখানে যাচ্ছেন:
- একবার, আগেই পরিশোধ। যাওয়ার আগেই দাম জানা থাকে, ফেরার পর হঠাৎ কোনো বিল আসে না।
- আপনার নম্বর চালু থাকে। সাধারণ সিম কল আর SMS-এর জন্য ফোনেই থাকে, আর ইন্টারনেট চলে eSIM দিয়ে।
- পৌঁছে কিছু খুঁজতে হয় না। বিমানবন্দরে দোকান, লাইন বা স্থানীয় সিমের জন্য পাসপোর্ট দেখানোর ঝামেলা নেই।
আমার ফোন কি eSIM সাপোর্ট করে?
প্রায় সব ফোনে কাজ করে এমন সবচেয়ে দ্রুত উপায়: ডায়ালার খুলে *#06# ডায়াল করুন। EID নামে একটি লাইন দেখা গেলে আপনার ফোন eSIM সাপোর্ট করে।
সেটিংসেও দেখতে পারেন:
- আইফোন: সেটিংস, তারপর মোবাইল ডেটা বা সেলুলার। eSIM যোগ করুন দেখলে আপনি প্রস্তুত। আইফোন XS ও XR থেকে পরের সব মডেল এটি সাপোর্ট করে।
- অ্যান্ড্রয়েড: সেটিংস, তারপর কানেকশন বা নেটওয়ার্ক, তারপর সিম কার্ড। eSIM যোগ করুন বা সিম ডাউনলোড করুন খুঁজুন। নতুন স্যামসাং গ্যালাক্সি ও গুগল পিক্সেল ফোন এটি সাপোর্ট করে।
আরেকটি বিষয়: ফোনটি আনলকড হতে হবে, অর্থাৎ কোনো একটি অপারেটরের সঙ্গে আটকানো নয়। প্যাকেজ ছাড়া কেনা ফোন প্রায় নিশ্চিতভাবেই আনলকড।
কীভাবে ব্যবহার করবেন, ধাপে ধাপে
- যে দেশে যাচ্ছেন তার প্যাকেজ কিনুন, যাত্রার আগে।
- বাসায় ওয়াই-ফাইতে ইনস্টল করুন। ইনস্টলের জন্য ইন্টারনেট লাগে।
- পৌঁছানোর পর ফোনের সেটিংসে মোবাইল ডেটার জন্য eSIM বেছে নিন এবং সেটিতে ডেটা রোমিং চালু করুন।
- সাধারণ সিমে ডেটা রোমিং বন্ধ রাখুন, যাতে বিদেশে ভুল করে সেটির ইন্টারনেট খরচ না হয়।
সংক্ষিপ্ত উত্তর
eSIM দিয়ে কি হোয়াটসঅ্যাপ চলবে?
হ্যাঁ। হোয়াটসঅ্যাপ আপনার নম্বরের সঙ্গে যুক্ত, ইন্টারনেট দেওয়া সিমের সঙ্গে নয়, তাই এটি আগের মতোই চলে।
সাধারণ কল করা যাবে?
ট্রাভেল eSIM সাধারণত শুধু ইন্টারনেটের জন্য। কল করতে হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো বা ইন্টারনেটে কল করা যায় এমন যেকোনো অ্যাপ ব্যবহার করুন।
একাধিক দেশে ব্যবহার করা যাবে?
হ্যাঁ, এমন রিজিওনাল প্যাকেজ দিয়ে যা কয়েকটি দেশ কভার করে, যেমন ইউরোপ বা উপসাগরীয় দেশগুলো।
ডেটা শেষ হলে কী করবেন?
Wigoo-তে আপনি অ্যাপ থেকেই একই eSIM রিচার্জ করতে পারেন, নতুন কিছু ইনস্টল না করে।